শাহনাজ বেগমকে সেলাই মেশিন বিতরণ
জীবনের কিছু গল্প এমন থাকে, যেগুলো পড়লে মনে হয় একজন মানুষ কতটা কষ্ট সহ্য করলে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে!
শাহনাজ বেগমের জীবনও তেমনই একটি গল্প।
২০২৪ সালের একদিন হঠাৎ করেই তার স্বামী দুই মেয়েকে আর তাকে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো ফিরে আসবেন। আত্মীয়-স্বজনের কাছে খোঁজ নেওয়া হলো, অনেক জায়গায় খোঁজা হলো, কিন্তু আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
এক মুহূর্তে বদলে গেল একটি পরিবারের পুরো জীবন।
দুই মেয়েকে নিয়ে শুরু হলো শাহনাজ বেগমের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে তিনি অন্যের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। কিন্তু সেই সামান্য আয়ে তিনজনের খাবার, মেয়েদের পড়াশোনা আর নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানো ছিল প্রায় অসম্ভব। অনেক দিনই সংসার চলেছে অর্ধাহারে, অনেক প্রয়োজনই অপূর্ণ থেকেছে।
একদিন বিবিডিসি এর একজন স্বেচ্ছাসেবক তার জীবনের এই কঠিন গল্পটি জানতে পারেন। আমরা শাহনাজ আপার সঙ্গে কথা বলি এবং জানতে চাই- “আপনাকে কীভাবে সাহায্য করলে আপনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন?”
তার উত্তর ছিল খুবই সহজ, কিন্তু আশায় ভরা।
তিনি বললেন, “আমি আর আমার বড় মেয়ে দুজনেই সেলাইয়ের কাজ জানি। যদি একটা সেলাই মেশিন পেতাম, তাহলে ঘরে বসেই কাজ করে নিজের সংসারটা একটু ভালোভাবে চালাতে পারতাম।”
আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের হাতে যদি কাজ তুলে দেওয়া যায়, তাহলে সেটিই সবচেয়ে বড় সহায়তা।
সেই বিশ্বাস থেকেই বিবিডিসি এর স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় শাহনাজ বেগমের জন্য একটি সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়।
যেদিন তার হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেওয়া হলো, সেদিন তার চোখের জল ছিল নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।
আজ একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়; এটি একজন মায়ের আত্মবিশ্বাস, দুই কন্যার ভবিষ্যতের আশা এবং একটি পরিবারের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
আমরা বিশ্বাস করি, দান তখনই সবচেয়ে অর্থবহ হয়, যখন তা একজন মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
শাহনাজ বেগম ও তার দুই কন্যার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যেন তাদের জীবনে স্থায়ী বরকত দান করেন এবং এই ছোট্ট উদ্যোগকে তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের সূচনা হিসেবে কবুল করেন।
আমরা বিশ্বাস করি, সহায়তা নয়, স্বাবলম্বিতাই হোক পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী পথ। 💙
বিবিডিসির স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পে অনুদান দিয়ে এই মহৎ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

